নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার আগ্রাদ্বিগুণে মজিবুর রহমান স্মৃতি গ্রন্থাগারের উদ্যোগে সাহিত্যচর্চা, সৃজনশীলতা এবং নতুন প্রজন্মের লেখক-কবিদের বিকাশের লক্ষ্যে সাহিত্য পরিষদের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বেলা ১১টায় মজিবুর রহমান স্মৃতি গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সাহিত্য পরিষদের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক, উদয়ন সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী নজিপুরের সভাপতি অধ্যাপক ড. আবুল হায়াত ইসমাইল।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরেণ্য কবি ও কথাসাহিত্যিক আহম্মদ হোসেন বাবু এবং আবৃত্তিশিল্পী জাভেদ নওরোজ আলমগীর। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাহমুদপুর আজিজিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক মো. বাবুল হোসাইন।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের সাহিত্য পরিষদের পক্ষ থেকে ফুলের গাছ উপহার দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। শুরুতে মজিবুর রহমান স্মৃতি গ্রন্থাগারের পরিচিতি তুলে ধরেন গ্রন্থাগারিক মো. রায়হান পারভেজ। পরে গ্রন্থাগারের ইতিহাস ও পথচলা নিয়ে আলোচনা করেন সহকারী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক রাজু।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে কবিতা পাঠ ও সাহিত্য আলোচনায় অংশ নেন মাহমুদপুর আজিজিয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক আশরাফুল ইসলাম চৌধুরী, আগ্রাদ্বিগুণ কলেজের অধ্যক্ষ মোজাফ্ফর রহমান, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মিলন কুমার মানী, ধামইরহাট কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মো. মুমিনুল ইসলাম এবং কবি রশিদুল ইসলাম।
সাহিত্য বিষয়ে মূল্যবান আলোচনা করেন আগ্রাদ্বিগুণ কলেজের প্রভাষক মো. ফারুক হোসেন সবুজ। এ সময় সংগীত পরিবেশন করেন নিস্কৃতি কুমার মন্ডল এবং ভাতগ্রাম আদর্শ নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক বিশত তিগ্যা।
এ ছাড়া কবিতা আবৃত্তিতে অংশগ্রহণ করেন মো. কামরুজ্জামান, মো. রেজা আহমেদ, মো. জিহাদ হাসান, মো. আব্দুর রহিম, মো. রেজুয়ান হুসাইন ও মো. মোরশেদ রানা। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পুস্তইলপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবুজার গিফারি।
আলোচনা পর্বে বিশেষ অতিথি কবি ও কথাসাহিত্যিক আহম্মদ হোসেন বাবু সাহিত্য পরিষদের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম, সাংগঠনিক কাঠামো এবং পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দেন। তাঁর আলোচনায় সাহিত্য পরিষদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার বিভিন্ন দিক উঠে আসে।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক ড. আবুল হায়াত ইসমাইল তাঁর বক্তব্যে বলেন, একটি সাহিত্য পরিষদকে পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করতে হলে সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা থাকা প্রয়োজন। তরুণ কবি ও লেখকদের সাহিত্যচর্চায় সম্পৃক্ত করা এবং নতুন লেখক তৈরিতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি তরুণ লেখকদের নিয়মিত সাহিত্যচর্চায় উৎসাহিত করার আহ্বান জানান। তিনি মজিবুর রহমান স্মৃতি গ্রন্থাগারের এ উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং গ্রন্থাগারের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।
উল্লেখ্য, মজিবুর রহমান স্মৃতি গ্রন্থাগারটি নওগাঁ জেলার অন্যতম দৃষ্টিনন্দন ও পাঠকপ্রিয় গ্রন্থাগার হিসেবে এলাকায় পরিচিতি লাভ করেছে। দীর্ঘদিন ধরে বইপ্রেমীদের কাছে গ্রন্থাগারটি সমাদৃত। দূর-দূরান্ত থেকে বিভিন্ন ব্যক্তি, সংগঠন ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা গ্রন্থাগারটি পরিদর্শনে আসেন। এর মনোরম পরিবেশ এবং সমৃদ্ধ বইয়ের সংগ্রহ দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। পাঠকেরা এখানে এসে বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার সুযোগ পান।
হাসান শাহরিয়ার পল্লব: 










