ঢাকা ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ জানুয়ারী ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

ইথিওপিয়ায় ট্রাক উল্টে নিহত ২২

ইথিওপিয়ায় একটি কার্গো ট্রাক দুর্ঘটনায় ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত হয়েছেন এবং আরও অন্তত ৬৫ জন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহত সবাই ইথিওপিয়ার নাগরিক।

মঙ্গলবার দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় আফার প্রদেশের সিমেরা শহরে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছে আফার পুলিশ। অবৈধভাবে চোরাপথে প্রতিবেশী দেশ জিবুতিতে যাওয়ার সময় ট্রাকটি উল্টে যায়। দুর্ঘটনাস্থলটি জিবুতির সীমান্ত থেকে কয়েক শ’ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

আফার পুলিশের জনসংযোগ বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, দুর্ঘটনার সময় ট্রাকটিতে শতাধিক যাত্রী ছিলেন। তারা স্থানীয় মানবপাচারকারী দালালদের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় বের হয়েছিলেন। ভ্রমণপথের ভয়াবহ ঝুঁকি সম্পর্কে তাদের কোনো পূর্ব ধারণা ছিল না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

“দুর্ঘটনা ঘটার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে আফারের প্রাদেশিক সরকারের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী। আহতদের সবাইকে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে প্রাদেশিক সরকার। সেই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হচ্ছে।”

সোমালিয়া, ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া এবং জিবুতি— পূর্ব আফ্রিকার এই চার দেশকে একত্রে বলা হয় ‘হর্ন অব আফ্রিকা’। ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া স্থলবেষ্টিত দেশ হলেও সোমালিয়া ও জিবুতি তা নয়। জিবুতির লোহিত সাগরের উপকূল থেকে সাগরপথে ইয়েমেন কিংবা সৌদি আরবে পৌঁছানো সম্ভব।

মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে যাওয়া ইথিওপিয়ার অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একটি বড় অংশের লক্ষ্য। এই লক্ষ্যপূরণে তারা প্রথমে জিবুতিতে যান, সেখান থেকে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে পৌঁছান ইয়েমেনে, তারপর ইয়েমেন থেকে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের উদ্দেশে রওনা হন তারা।

তবে ইথিওপীয় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জিবুতি যাওয়ার জন্য মানবপাচারকারীরা যে রুট ব্যবহার করে, সেটি বেশ বিপজ্জনক। জাতিসংঘের বৈশ্বিক অভিবাসন বিষয়ক অঙ্গসংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের (আইওএম) তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই রুটে প্রাণ হারিয়েছেন ৮৯০ জন। এই পথটিকে বিশ্বের সবচেয়ে ‘বিপদসঙ্কুল রুট’ বলে উল্লেখ করে করেছে।

তবে এত ঝুঁকি সত্ত্বেও অভিবাসনপ্রত্যাশী এবং মানবপাচারকারীদের কাছে এই রুটের ‘জনপ্রিয়তা’ কমছে না। কারণ আইওএম-এর তথ্য বলছে, বর্তমানে এই পথটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত অভিবাসন রুট।

সূত্র: আলজাজিরা

ট্যাগস

ইথিওপিয়ায় ট্রাক উল্টে নিহত ২২

আপডেট সময় ১২:০৮:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬

ইথিওপিয়ায় একটি কার্গো ট্রাক দুর্ঘটনায় ২২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী নিহত হয়েছেন এবং আরও অন্তত ৬৫ জন আহত হয়েছেন। নিহত ও আহত সবাই ইথিওপিয়ার নাগরিক।

মঙ্গলবার দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় আফার প্রদেশের সিমেরা শহরে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে জানিয়েছে আফার পুলিশ। অবৈধভাবে চোরাপথে প্রতিবেশী দেশ জিবুতিতে যাওয়ার সময় ট্রাকটি উল্টে যায়। দুর্ঘটনাস্থলটি জিবুতির সীমান্ত থেকে কয়েক শ’ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

আফার পুলিশের জনসংযোগ বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, দুর্ঘটনার সময় ট্রাকটিতে শতাধিক যাত্রী ছিলেন। তারা স্থানীয় মানবপাচারকারী দালালদের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় বের হয়েছিলেন। ভ্রমণপথের ভয়াবহ ঝুঁকি সম্পর্কে তাদের কোনো পূর্ব ধারণা ছিল না বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

“দুর্ঘটনা ঘটার কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেছে আফারের প্রাদেশিক সরকারের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী। আহতদের সবাইকে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে প্রাদেশিক সরকার। সেই সঙ্গে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হচ্ছে।”

সোমালিয়া, ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া এবং জিবুতি— পূর্ব আফ্রিকার এই চার দেশকে একত্রে বলা হয় ‘হর্ন অব আফ্রিকা’। ইথিওপিয়া, ইরিত্রিয়া স্থলবেষ্টিত দেশ হলেও সোমালিয়া ও জিবুতি তা নয়। জিবুতির লোহিত সাগরের উপকূল থেকে সাগরপথে ইয়েমেন কিংবা সৌদি আরবে পৌঁছানো সম্ভব।

মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে যাওয়া ইথিওপিয়ার অভিবাসনপ্রত্যাশীদের একটি বড় অংশের লক্ষ্য। এই লক্ষ্যপূরণে তারা প্রথমে জিবুতিতে যান, সেখান থেকে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে পৌঁছান ইয়েমেনে, তারপর ইয়েমেন থেকে সৌদি আরব ও উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশের উদ্দেশে রওনা হন তারা।

তবে ইথিওপীয় অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জিবুতি যাওয়ার জন্য মানবপাচারকারীরা যে রুট ব্যবহার করে, সেটি বেশ বিপজ্জনক। জাতিসংঘের বৈশ্বিক অভিবাসন বিষয়ক অঙ্গসংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশনের (আইওএম) তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এই রুটে প্রাণ হারিয়েছেন ৮৯০ জন। এই পথটিকে বিশ্বের সবচেয়ে ‘বিপদসঙ্কুল রুট’ বলে উল্লেখ করে করেছে।

তবে এত ঝুঁকি সত্ত্বেও অভিবাসনপ্রত্যাশী এবং মানবপাচারকারীদের কাছে এই রুটের ‘জনপ্রিয়তা’ কমছে না। কারণ আইওএম-এর তথ্য বলছে, বর্তমানে এই পথটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত অভিবাসন রুট।

সূত্র: আলজাজিরা


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/visionnewstoday/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481