নওগাঁয় ছত্রাক ও মাজরা পোকা রোপা আমন ধানের ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। দিশেহারা চাষীরা ফসল রক্ষায় বিভিন্ন কোম্পানীর কীটনাশক ব্যবহার করছেন। কিন্ত তাতেও কোন কাজ হচ্ছে না।
কৃষি বিভাগ বলছে এবার অধিক বৃষ্টি ও পরে প্রখর রোদ এমন আবহাওয়ায় প্রভাব ফেলেছে কৃষিতে। তবে উদ্বিগ্ন চাষীদের কৃষি অফিসের পরামর্শ নেওয়ার আহবান জানাচ্ছেন।
দূর থেকে দেখলে মনে হবে—ধান পেকে গেছে! কিন্তু কাছে গেলে দেখা যায়, ধানগাছগুলো হলুদ হয়ে শুকিয়ে গেছে, শীষগুলো ফাঁকা। গোড়ায় পচন ধরেছে, পাতায় ছত্রাকের দাগ। এভাবেই নওগাঁর মাঠে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে রোপা আমন ধান।
ধানের ক্ষেতে ছত্রাক, মাজরা পোকা, পাতা মোড়ানো পোকা, ব্লাস্টসহ নানা রোগবালাইয়ে দিশেহারা চাষীরা।
জেলা সদর ছাড়াও মহাদেবপুর, মান্দা, আত্রাই, নিয়ামতপুর ও পোরশা, পত্নীতলা রাণীনগর উপজেলার প্রায় সব জায়গায় দেখা দিয়েছে একই চিত্র।
আর মাত্র ১৫ দিন পর ধান কেটে ঘরে তোলার কথা ছিল—কিন্তু এর আগেই মাঠে শুরু হয়েছে ফলন বিপর্যয়।
চাষীরা বলছেন, বিভিন্ন কোম্পানির কীটনাশক ব্যবহার করেও কাজ হচ্ছে না। ফলে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তারা।
নওগাঁ সদর উপজেলার বাচারী গ্রামের চাষী হামিদুল হক জানান, তিনি অন্তত ৫ বার কীটনাশক প্রয়োগ করে কোন কাজ হয়নি। মহাদেবপুর উপজেলার উত্তর গ্রামের কৃষক মাহবুব আলম জানান, এবার এতো বেশি খরচ হচ্ছে যা ধান শেষ পর্যন্ত ঘরে উঠবে কিনা তা বলা যাচ্ছে না।
কৃষি বিভাগ বলছে—অধিক বৃষ্টি আর পরের প্রখর রোদ এবারের আমন মৌসুমে আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটিয়েছে।ফলে ধানের ক্ষেতে বাড়ছে রোগবালাইয়ের প্রভাব।
নওগাঁ, কৃষি বিভাগ উপ-পরিচালক, উদ্যান মো. রেজাউল করিম বলছেন; আমরা কৃষকদের আহবান করছি যেখানে এমন সমস্যা তারা যেন কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে কীটনাশক প্রয়োগ করেন।
চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৯৪ হাজার হেক্টর জমিতে রোপা আমন ধানের আবাদ হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১০ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদনের।

স্টাফ রিপোটার : 











