ঢাকা ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪, ৯ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

অর্থনীতির সিংহদ্বার খুলে দেবে মেট্রোরেল

ই টিকেট হাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহানা।

যেখানে বর্তমান জিডিপির ৩৭ শতাংশই আসে রাজধানী থেকে, সেই রাজধানীতেই প্রতিদিন ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে শুধু যানজটের কারণে। যানজট থেকে মুক্ত হয়ে বড় অঙ্কের অর্থ সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখবে মেট্রোরেল–এমনটাই বলছে নানামুখী পরিসংখ্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) দেয়া তথ্যানুসারে, কর্মঘণ্টা কাজে লাগিয়ে ও যানবাহন পরিচালনার ব্যয় কমিয়ে প্রতিবছর মেট্রোরেল থেকে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব।

সম্প্রতি ডিএমটিসিএল আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শুধু যানজটের কারণে প্রতিবছর দেশে ৩৩ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা অপচয় হয়। মেট্রোরেলের এমআরটি-৬ পুরোদমে চালু হলে প্রতিদিন ৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা যাতায়াত ব্যয় ও ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা যানবহন পরিচালন ব্যয় সাশ্রয় হবে।

এ ছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে মেট্রোরেল চালু হলে এ বাহনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হবে বড় একটি চাকরির বাজার। মেট্রোরেল পরিচালনার জন্য নতুন করে ১২ হাজার প্রকৌশলী নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানায় ডিএমটিসিএল। প্রকৌশলী ছাড়াও মেট্রোরেল পরিচালনার জন্য প্রতিটি স্টেশনের অপারেটিং রুম, টিকিট কাউন্টার, ব্যর্জ ব্যবস্থাপনা, এসকেলেটর ও লিফট সংক্রান্ত কাজে একটি বড় সংখ্যক মানবসম্পদের ব্যবহার হবে।

বাংলাদেশের বর্তমান মেগা প্রজেক্টগুলোর মধ্যে মেট্রোরেল অন্যতম। রাজধানীতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা গণপরিবহনের নৈরাজ্যের কাছে এক রকমের জিম্মি। বাসের হেলপারের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে বচসা প্রতিদিনকার রুটিন। মেট্রোরেলের ডিজিটাল টিকিটিং সিস্টেম মানুষকে ক্যাশলেস লেনদেনে উদ্বুদ্ধ করবে। এ ছাড়া পুরোদমে মেট্রোরেল চালু হলে গণপরিবহনের বিকল্প হবে কাঙ্ক্ষিত এ বাহন।
উত্তরা-কমলাপুর সড়কে মেট্রোরেলের মোট দৈর্ঘ্য ২১ দশমিক ৬ কিলোমিটার। এর খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা।

এই মেগা প্রজেক্ট বাংলাদেশের জন্য উচ্চভিলাষী কি না–এমন প্রশ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘অনেকেই বলছেন মেট্রোরেলের পেছনে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। আমি বলব, এটি প্রধানমন্ত্রীর একটি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। খরচের থেকেও কয়েক গুণ বেশি টাকা উঠে আসবে মেট্রোরেল থেকে।’

আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘বর্তমান সরকার যেসব মেগা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে, যেমন: পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল ও রূপপুর, এগুলো সরকারের দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফসল। দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নকে অবহেলা করে কখনোই উন্নতির চিন্তা করা যায় না। যতদ্রুত মেট্রোরেল ও পাতাল রেলের কাজ শেষ হবে, ততদ্রুত বাঁচবে মানুষের কর্মঘণ্টা। সময়ের অপচয় সবচেয়ে বড় অপচয়। মেট্রোরেল আমাদের এ অপচয় থেকে বাঁচিয়ে দেবে।’

মেট্রোরেল থেকে জাতীয়ভাবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবেও লাভবান হবে মানুষ। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত মানুষ যারা গণপরিবহনের ওপর অতিষ্ঠ হয়ে গাড়ি কেনার চিন্তা করছেন, তাদের দ্বিতীয়বার ভাবাবে মেট্রোরেল।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ প্ল্যানার্স ইনস্টিটিউশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আদিল মুহম্মদ খান বলেন, ‘মেট্রোরেল হলে ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার হার কমে আসবে। এটা নির্দিষ্ট করে বলা না গেলেও কম করে হলেও ১৫-২০ শতাংশ কমে আসবে ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার হার। মতিঝিলের দিকে যারা ব্যাংকে চাকরি করেন কিংবা বড় বড় পদে চাকরি করছেন, তাদের একাংশ নিজেদের যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করতে চান। এটা কিন্তু শখের বসে নয়, প্রয়োজনেই। তাদের এই প্রয়োজনের বড় একটি অংশ মিটবে মেট্রোরেলের মাধ্যমে।’

এ ছাড়া মেট্রোরেলকে কেন্দ্র করে প্রতিটি স্টেশন ও স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠবে স্টেশন প্লাজা। এ ছাড়া সংযুক্ত হবে ট্রানজিট-ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্টের (টিওডি) মতো নানামুখী বাণিজ্যিক সুবিধা। স্টেশনে টিওডির মতো মিনি বিজনেস হাব সংযুক্ত হলে সেখানে উন্নতমানের হোটেল, শপিংমল ও বাজার নির্মাণের কথা জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্যানুসারে, রাজধানীর মেট্রোরেল সংশ্লিষ্ট প্রথম টিওডি নির্মিত হবে উত্তরা স্টেশনে। পরে ধাপে ধাপে ফার্মগেট, আগারগাঁও ও মতিঝিলের মতো এলাকায় গড়ে উঠবে টিওডির মতো বিজনেস হাব।

উদ্বোধনের পর শুরুতে মেট্রোরেল চলবে দিনে চার ঘণ্টা। মেট্রোরেলের সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা। সে হিসাবে আগারগাঁও থেকে দিয়াবাড়ি পর্যন্ত মেট্রোরেলের ভাড়া দাঁড়াবে ৬০ টাকা। মেট্রোরেলে রাখা হয়নি কোনো শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাসের সুবিধা। তবে স্মার্টকার্ডে ভাড়া পরিশোধ করলে মিলবে ১০ শতাংশ ছাড় ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিনা মূল্যে মেট্রোরেলে যাতায়াত করতে পারবেন।

ট্যাগস

আলিশান চাল, নওগাঁ

বিজ্ঞাপন দিন

অর্থনীতির সিংহদ্বার খুলে দেবে মেট্রোরেল

আপডেট সময় ০৬:১২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ ডিসেম্বর ২০২২

যেখানে বর্তমান জিডিপির ৩৭ শতাংশই আসে রাজধানী থেকে, সেই রাজধানীতেই প্রতিদিন ৩২ লাখ কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে শুধু যানজটের কারণে। যানজট থেকে মুক্ত হয়ে বড় অঙ্কের অর্থ সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখবে মেট্রোরেল–এমনটাই বলছে নানামুখী পরিসংখ্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) দেয়া তথ্যানুসারে, কর্মঘণ্টা কাজে লাগিয়ে ও যানবাহন পরিচালনার ব্যয় কমিয়ে প্রতিবছর মেট্রোরেল থেকে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আয় করা সম্ভব।

সম্প্রতি ডিএমটিসিএল আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শুধু যানজটের কারণে প্রতিবছর দেশে ৩৩ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা অপচয় হয়। মেট্রোরেলের এমআরটি-৬ পুরোদমে চালু হলে প্রতিদিন ৮ কোটি ৩৮ লাখ টাকা যাতায়াত ব্যয় ও ১ কোটি ১৮ লাখ টাকা যানবহন পরিচালন ব্যয় সাশ্রয় হবে।

এ ছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে মেট্রোরেল চালু হলে এ বাহনকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হবে বড় একটি চাকরির বাজার। মেট্রোরেল পরিচালনার জন্য নতুন করে ১২ হাজার প্রকৌশলী নিয়োগ দেয়া হবে বলে জানায় ডিএমটিসিএল। প্রকৌশলী ছাড়াও মেট্রোরেল পরিচালনার জন্য প্রতিটি স্টেশনের অপারেটিং রুম, টিকিট কাউন্টার, ব্যর্জ ব্যবস্থাপনা, এসকেলেটর ও লিফট সংক্রান্ত কাজে একটি বড় সংখ্যক মানবসম্পদের ব্যবহার হবে।

বাংলাদেশের বর্তমান মেগা প্রজেক্টগুলোর মধ্যে মেট্রোরেল অন্যতম। রাজধানীতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা গণপরিবহনের নৈরাজ্যের কাছে এক রকমের জিম্মি। বাসের হেলপারের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে বচসা প্রতিদিনকার রুটিন। মেট্রোরেলের ডিজিটাল টিকিটিং সিস্টেম মানুষকে ক্যাশলেস লেনদেনে উদ্বুদ্ধ করবে। এ ছাড়া পুরোদমে মেট্রোরেল চালু হলে গণপরিবহনের বিকল্প হবে কাঙ্ক্ষিত এ বাহন।
উত্তরা-কমলাপুর সড়কে মেট্রোরেলের মোট দৈর্ঘ্য ২১ দশমিক ৬ কিলোমিটার। এর খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা।

এই মেগা প্রজেক্ট বাংলাদেশের জন্য উচ্চভিলাষী কি না–এমন প্রশ্নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘অনেকেই বলছেন মেট্রোরেলের পেছনে অনেক টাকা খরচ হয়েছে। আমি বলব, এটি প্রধানমন্ত্রীর একটি দূরদর্শী সিদ্ধান্ত। খরচের থেকেও কয়েক গুণ বেশি টাকা উঠে আসবে মেট্রোরেল থেকে।’

আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘বর্তমান সরকার যেসব মেগা প্রজেক্ট হাতে নিয়েছে, যেমন: পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, কর্ণফুলী টানেল ও রূপপুর, এগুলো সরকারের দূরদর্শী সিদ্ধান্তের ফসল। দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নকে অবহেলা করে কখনোই উন্নতির চিন্তা করা যায় না। যতদ্রুত মেট্রোরেল ও পাতাল রেলের কাজ শেষ হবে, ততদ্রুত বাঁচবে মানুষের কর্মঘণ্টা। সময়ের অপচয় সবচেয়ে বড় অপচয়। মেট্রোরেল আমাদের এ অপচয় থেকে বাঁচিয়ে দেবে।’

মেট্রোরেল থেকে জাতীয়ভাবে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ছাড়াও ব্যক্তিগতভাবেও লাভবান হবে মানুষ। বিশেষ করে মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত মানুষ যারা গণপরিবহনের ওপর অতিষ্ঠ হয়ে গাড়ি কেনার চিন্তা করছেন, তাদের দ্বিতীয়বার ভাবাবে মেট্রোরেল।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ প্ল্যানার্স ইনস্টিটিউশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আদিল মুহম্মদ খান বলেন, ‘মেট্রোরেল হলে ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার হার কমে আসবে। এটা নির্দিষ্ট করে বলা না গেলেও কম করে হলেও ১৫-২০ শতাংশ কমে আসবে ব্যক্তিগত গাড়ি কেনার হার। মতিঝিলের দিকে যারা ব্যাংকে চাকরি করেন কিংবা বড় বড় পদে চাকরি করছেন, তাদের একাংশ নিজেদের যাতায়াতের জন্য ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করতে চান। এটা কিন্তু শখের বসে নয়, প্রয়োজনেই। তাদের এই প্রয়োজনের বড় একটি অংশ মিটবে মেট্রোরেলের মাধ্যমে।’

এ ছাড়া মেট্রোরেলকে কেন্দ্র করে প্রতিটি স্টেশন ও স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় গড়ে উঠবে স্টেশন প্লাজা। এ ছাড়া সংযুক্ত হবে ট্রানজিট-ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্টের (টিওডি) মতো নানামুখী বাণিজ্যিক সুবিধা। স্টেশনে টিওডির মতো মিনি বিজনেস হাব সংযুক্ত হলে সেখানে উন্নতমানের হোটেল, শপিংমল ও বাজার নির্মাণের কথা জানায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের দেয়া তথ্যানুসারে, রাজধানীর মেট্রোরেল সংশ্লিষ্ট প্রথম টিওডি নির্মিত হবে উত্তরা স্টেশনে। পরে ধাপে ধাপে ফার্মগেট, আগারগাঁও ও মতিঝিলের মতো এলাকায় গড়ে উঠবে টিওডির মতো বিজনেস হাব।

উদ্বোধনের পর শুরুতে মেট্রোরেল চলবে দিনে চার ঘণ্টা। মেট্রোরেলের সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ টাকা। সে হিসাবে আগারগাঁও থেকে দিয়াবাড়ি পর্যন্ত মেট্রোরেলের ভাড়া দাঁড়াবে ৬০ টাকা। মেট্রোরেলে রাখা হয়নি কোনো শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ পাসের সুবিধা। তবে স্মার্টকার্ডে ভাড়া পরিশোধ করলে মিলবে ১০ শতাংশ ছাড় ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা বিনা মূল্যে মেট্রোরেলে যাতায়াত করতে পারবেন।