ঢাকা ০৮:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ২১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ :
Logo নওগাঁয় শক্রতার জেরে ২ বিঘা জমির ধান নষ্ট, বিচার দাবীতে মানব বন্ধন Logo নওগাঁয় প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে পৈতৃক জমি আত্মসাতের চেষ্টা   Logo ঢাবি ছাত্রীর মরদেহ: শিক্ষককে নিয়ে লিখেছে চিরকুট Logo মহাদেবপুর উপজেলা কেন্দ্রীয় পাঠাগারে ইউএনও’র বিদায় সংবর্ধনা Logo আবু সাঈদ হত্যা: বেরোবির সাবেক ভিসির ১০ বছর কারাদণ্ড Logo আবু সাঈদ হত্যা মামলায় দুইজনের ফাঁসি, তিনজনের যাবজ্জীবন Logo বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হচ্ছে: সিইসি Logo হাদি হত্যার প্রধান আসামি ফয়সালের অস্ত্র মামলার রায় ঘোষণা Logo মানবিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী Logo হামের টিকা সংকটের দায় গত সরকারের; স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ইরানকে কাবু করার ‘সুযোগ খুঁজছে’ যুক্তরাষ্ট্র: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলার সুযোগ খুঁজছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।

এমন কোনো পদক্ষেপ নিলে অঞ্চলটি আরো অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

শুক্রবার তুরস্কের টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, ‘আমি আশা করি তারা ভিন্ন পথ বেছে নেবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিশেষ করে ইসরায়েল ইরানের ওপর আঘাত হানার সুযোগ খুঁজছে।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয় দেশই এমন অবস্থানে আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ফিদান বলেন, ইসরায়েলই বিশেষভাবে এমন সুযোগের সন্ধানে রয়েছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানান, সম্প্রতি ইরান সফরের সময় তিনি সরাসরি ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে নিজের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন। ফিদান বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমি তেহরানে গেলে একজন বন্ধুর মতো পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাদের সব বলেছি। আর বন্ধুই তিক্ত সত্য কথা বলে।’

ফিদানের এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়, যখন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বৃহস্পতিবার ফোনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে জানান, ইরানে কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধী তুরস্ক এবং তারা প্রতিবেশী দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে গুরুত্ব দেয়।

শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, শত্রুপক্ষের যেকোনো হামলাকে তেহরান ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করবে। ওয়াশিংটন ও ইরানি নেতৃত্বের মধ্যে কথার লড়াই যখন তীব্র হচ্ছে, তখনই এমন মন্তব্য এলো।

আগের দিন বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানকে লক্ষ্য করে তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌযানের একটি ‘বহর’ পাঠিয়েছেন। গত সপ্তাহে ইরানের ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে হামলার হুমকি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিলেও এবার আবারো তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার বার্তা দেন তিনি।

ইরানের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমেরিকানরা যদি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করে, আমরা জবাব দেব।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই সামরিক প্রস্তুতি-আমরা আশা করি এটি বাস্তব সংঘাতের জন্য নয়- তবে আমাদের সামরিক বাহিনী সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। এ কারণেই ইরানে সবকিছু সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।’

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এবার যেকোনো হামলা-সীমিত হোক বা ব্যাপক, সার্জিক্যাল হোক বা কাইনেটিক, যাই নাম দেওয়া হোক না কেন-আমরা সেটিকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ হিসেবেই দেখব এবং কঠোরতম উপায়ে জবাব দেব।’

ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে স্থায়ী সামরিক হুমকির মুখে থাকা কোনো দেশের সামনে আক্রমণ ঠেকাতে এবং প্রয়োজন হলে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে নিজের হাতে থাকা সব উপকরণ ব্যবহার করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না।’

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী ও এর স্ট্রাইক গ্রুপ দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে মোড় নিয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

২০২৪ সালের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধের সমর্থনে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগে বড় ধরনের নৌবাহিনী মোতায়েন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।

ট্যাগস

নওগাঁয় শক্রতার জেরে ২ বিঘা জমির ধান নষ্ট, বিচার দাবীতে মানব বন্ধন

ইরানকে কাবু করার ‘সুযোগ খুঁজছে’ যুক্তরাষ্ট্র: তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় ১২:১৩:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলার সুযোগ খুঁজছে বলে মন্তব্য করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান।

এমন কোনো পদক্ষেপ নিলে অঞ্চলটি আরো অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।

শুক্রবার তুরস্কের টেলিভিশন চ্যানেল এনটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, ‘আমি আশা করি তারা ভিন্ন পথ বেছে নেবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বিশেষ করে ইসরায়েল ইরানের ওপর আঘাত হানার সুযোগ খুঁজছে।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয় দেশই এমন অবস্থানে আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ফিদান বলেন, ইসরায়েলই বিশেষভাবে এমন সুযোগের সন্ধানে রয়েছে।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো জানান, সম্প্রতি ইরান সফরের সময় তিনি সরাসরি ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে নিজের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেছেন। ফিদান বলেন, ‘কয়েক দিন আগে আমি তেহরানে গেলে একজন বন্ধুর মতো পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাদের সব বলেছি। আর বন্ধুই তিক্ত সত্য কথা বলে।’

ফিদানের এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়, যখন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান বৃহস্পতিবার ফোনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে জানান, ইরানে কোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরোধী তুরস্ক এবং তারা প্রতিবেশী দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে গুরুত্ব দেয়।

শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, শত্রুপক্ষের যেকোনো হামলাকে তেহরান ‘পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ’ হিসেবে বিবেচনা করবে। ওয়াশিংটন ও ইরানি নেতৃত্বের মধ্যে কথার লড়াই যখন তীব্র হচ্ছে, তখনই এমন মন্তব্য এলো।

আগের দিন বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ইরানকে লক্ষ্য করে তিনি উপসাগরীয় অঞ্চলে নৌযানের একটি ‘বহর’ পাঠিয়েছেন। গত সপ্তাহে ইরানের ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের প্রেক্ষাপটে হামলার হুমকি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিলেও এবার আবারো তেহরানের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার বার্তা দেন তিনি।

ইরানের ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘আমেরিকানরা যদি ইরানের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা লঙ্ঘন করে, আমরা জবাব দেব।’ তিনি আরো বলেন, ‘এই সামরিক প্রস্তুতি-আমরা আশা করি এটি বাস্তব সংঘাতের জন্য নয়- তবে আমাদের সামরিক বাহিনী সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত। এ কারণেই ইরানে সবকিছু সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।’

ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এবার যেকোনো হামলা-সীমিত হোক বা ব্যাপক, সার্জিক্যাল হোক বা কাইনেটিক, যাই নাম দেওয়া হোক না কেন-আমরা সেটিকে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ হিসেবেই দেখব এবং কঠোরতম উপায়ে জবাব দেব।’

ওই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে স্থায়ী সামরিক হুমকির মুখে থাকা কোনো দেশের সামনে আক্রমণ ঠেকাতে এবং প্রয়োজন হলে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে নিজের হাতে থাকা সব উপকরণ ব্যবহার করা ছাড়া আর কোনো পথ থাকে না।’

যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন বিমানবাহী রণতরী ও এর স্ট্রাইক গ্রুপ দক্ষিণ চীন সাগর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের দিকে মোড় নিয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

২০২৪ সালের জুনে ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের ১২ দিনের যুদ্ধের সমর্থনে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আগে বড় ধরনের নৌবাহিনী মোতায়েন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।