ঢাকা ১১:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৭ অগাস্ট ২০২৬, ২৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ :
Logo নওগাঁর আত্রাইয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা ভাঙচুর হত্যা চেষ্টার অভিযোগ   Logo হবিগঞ্জে ছাত্রদল সভাপতিসহ ১’শ জনকে আসামি করে মামলা, ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার Logo চুয়েটে পুকুরে গোসল করতে নেমে শিক্ষার্থীর মৃত্যু Logo দুবাই পাঠানোর নামে জাল ভিসা দিয়ে নওগাঁয় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ Logo রাষ্ট্রপতি হওয়ার খবর গুজব, বললেন মির্জা ফখরুল Logo নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে আবু বকর-বেলাল Logo নওগাঁয় মাদকের টাকা না পেয়ে  পিতাকে খুন করলো ছেলে Logo নওগাঁয় সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রীকে অপহরণ ৩ সপ্তাহে হয়নি উদ্ধার Logo নওগাঁয় আদালতের নির্দেশে কবর ১০ মাস পর শিশুর লাশ উত্তোলন Logo নওগাঁয় ক্লাসরুমের ছাদ ধসে ৭ শিক্ষার্থী আহত

ভুল গ্রুপের রক্ত দেওয়ায় রোগীর মৃত্যু, তদন্তে প্রতিনিধি দল রংপুরে

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুল গ্রুপের রক্ত দেওয়া হলে ফাতেমা বেগম (৪৪) নামে এক রোগী  মারা যান। গত ১০ জুলাই ঢাকার সেন্টার ফর কিডনী ডিজিজেস এন্ড ইউরোলজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এ ঘটনার তদন্তের জন্য রংপুরে পৌঁছেছেন ঢাকা থেকে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।

প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ডা. মোহাম্মদ জিয়া উদ্দীন। তার সাথে রয়েছেন ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের গাইনি এন্ড অবস বিভাগের অধ্যাপক ডা. মুনা সালিমা জাহান, ঢাকা মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. ইমতিয়াজ ফারুক, ডা দানিশ আরেফিন বিশ্বাস।

শনিবার দুপুরে তারা তদন্ত কাজ শুরু করেন। প্রথমের মৃতের ছেলে, মেয়ে ও জামাইয়ের কথা শোনেন তদন্তকারী দল। তারা রবিবারও বিভিন্নজনের সাক্ষাৎকার নেবেন।

জানা গেছে, জরায়ু মুখে অপারেশনের জন্য ২১ জুন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি হন রংপুর নগরীর কেরানীপাড়ার বাসিন্দা দুলাল মিয়ার স্ত্রী ফাতেমা বেগম। পরদিন তার অপারেশনের জন্য রক্ত পরীক্ষার জন্য স্যাম্পল নিয়ে হাসপাতালে ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগে পাঠানো হয়। সেখানে তার রক্তের গ্রুপ নির্ধারণ করা হয় ‘এ’ পজিটিভ। অপারেশনের পর রক্ত লাগবে জেনে ‘এ’ পজিটিভ ডোনার থেকে রক্ত সংগ্রহ করা হয়। ২২ জুন বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফাতেমা বেগমের অপারেশন সম্পন্ন করা হয়। এরপর তাকে ‘এ’ পজেটিভ রক্ত দেওয়া হয়। এর ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর ফাতেমা বেগমের ক্যাথেটার দিয়ে প্রায় এক ব্যাগ রক্ত ঝরে।

খবর পেয়ে চিকিৎসকরা এসে জরায়ু মুখে আবার অপারেশনের কথা বলে। এজন্য আবারও ফাতেমা বেগমের রক্ত পরীক্ষার জন্য হাসপাতালের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগে পাঠানো হয়। এবার তার রক্তের গ্রুপ ‘ও’ পজেটিভ দেখা যায় এবং ফাতেমা বেগমকে ভুল রক্ত দেওয়ার জন্য তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২২ জুন ফাতেমা বেগমকে আইসিইউতে নিয়ে ২৯ জুন পর্যন্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এরপর হাসপাতালের আইসিইউ থেকে জানানো হয় ফাতেমা বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে হবে। পরে ফাতেমা বেগমকে ঢাকার সেন্টার ফর কিডনী ডিজিজেস এন্ড ইউরোলজি হাসপাতালে ভর্তি করা। এখানে ফাতেমা বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় রমেক হাসপাতালেলর পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হলেও তারা সময়মতো তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করতে পারেনি। পরে বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলে শনিবার ওই ঘটনার তদন্ত কাজ শুরু হয় একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে।

রমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আক্তারুজ্জামান বলেন, মৃত ফাতেমা বেগমের ছেলে, মেয়ে ও মেয়ে জামাইসহ কয়েকজনের সাথে তদন্ত কমিটি কথা বলেছে। তদন্তকাজ রবিবারও চলবে।

ট্যাগস

নওগাঁর আত্রাইয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা ভাঙচুর হত্যা চেষ্টার অভিযোগ  

ভুল গ্রুপের রক্ত দেওয়ায় রোগীর মৃত্যু, তদন্তে প্রতিনিধি দল রংপুরে

আপডেট সময় ০৯:৫৯:১৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৪

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুল গ্রুপের রক্ত দেওয়া হলে ফাতেমা বেগম (৪৪) নামে এক রোগী  মারা যান। গত ১০ জুলাই ঢাকার সেন্টার ফর কিডনী ডিজিজেস এন্ড ইউরোলজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এ ঘটনার তদন্তের জন্য রংপুরে পৌঁছেছেন ঢাকা থেকে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল।

প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ডা. মোহাম্মদ জিয়া উদ্দীন। তার সাথে রয়েছেন ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের গাইনি এন্ড অবস বিভাগের অধ্যাপক ডা. মুনা সালিমা জাহান, ঢাকা মেডিকেল কলেজের সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. ইমতিয়াজ ফারুক, ডা দানিশ আরেফিন বিশ্বাস।

শনিবার দুপুরে তারা তদন্ত কাজ শুরু করেন। প্রথমের মৃতের ছেলে, মেয়ে ও জামাইয়ের কথা শোনেন তদন্তকারী দল। তারা রবিবারও বিভিন্নজনের সাক্ষাৎকার নেবেন।

জানা গেছে, জরায়ু মুখে অপারেশনের জন্য ২১ জুন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি বিভাগে ভর্তি হন রংপুর নগরীর কেরানীপাড়ার বাসিন্দা দুলাল মিয়ার স্ত্রী ফাতেমা বেগম। পরদিন তার অপারেশনের জন্য রক্ত পরীক্ষার জন্য স্যাম্পল নিয়ে হাসপাতালে ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগে পাঠানো হয়। সেখানে তার রক্তের গ্রুপ নির্ধারণ করা হয় ‘এ’ পজিটিভ। অপারেশনের পর রক্ত লাগবে জেনে ‘এ’ পজিটিভ ডোনার থেকে রক্ত সংগ্রহ করা হয়। ২২ জুন বেলা ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফাতেমা বেগমের অপারেশন সম্পন্ন করা হয়। এরপর তাকে ‘এ’ পজেটিভ রক্ত দেওয়া হয়। এর ৩ থেকে ৪ ঘণ্টা পর ফাতেমা বেগমের ক্যাথেটার দিয়ে প্রায় এক ব্যাগ রক্ত ঝরে।

খবর পেয়ে চিকিৎসকরা এসে জরায়ু মুখে আবার অপারেশনের কথা বলে। এজন্য আবারও ফাতেমা বেগমের রক্ত পরীক্ষার জন্য হাসপাতালের ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগে পাঠানো হয়। এবার তার রক্তের গ্রুপ ‘ও’ পজেটিভ দেখা যায় এবং ফাতেমা বেগমকে ভুল রক্ত দেওয়ার জন্য তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২২ জুন ফাতেমা বেগমকে আইসিইউতে নিয়ে ২৯ জুন পর্যন্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়।

এরপর হাসপাতালের আইসিইউ থেকে জানানো হয় ফাতেমা বেগমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নিতে হবে। পরে ফাতেমা বেগমকে ঢাকার সেন্টার ফর কিডনী ডিজিজেস এন্ড ইউরোলজি হাসপাতালে ভর্তি করা। এখানে ফাতেমা বেগম চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এ ঘটনায় রমেক হাসপাতালেলর পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হলেও তারা সময়মতো তদন্ত রিপোর্ট দাখিল করতে পারেনি। পরে বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হলে শনিবার ওই ঘটনার তদন্ত কাজ শুরু হয় একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে।

রমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. আক্তারুজ্জামান বলেন, মৃত ফাতেমা বেগমের ছেলে, মেয়ে ও মেয়ে জামাইসহ কয়েকজনের সাথে তদন্ত কমিটি কথা বলেছে। তদন্তকাজ রবিবারও চলবে।