ঢাকা ০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ :
Logo ধামইরহাটে ৫৫ তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত Logo আগ্রাদ্বিগুণে মজিবুর রহমান স্মৃতি গ্রন্থাগারে সাহিত্য পরিষদের উদ্বোধন Logo শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল পাস দেওয়া হবে না: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী Logo ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে: প্রধানমন্ত্রী Logo মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের বড় পরাজয়, চাপে ট্রাম্প Logo ১০ পরীক্ষার্থী ১৭ জন শিক্ষক, পাশ করেননি কেউ Logo টাঙ্গাইলে প্রাইভেট কার ও অটো রিক্সার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ১ Logo গাজীপুরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে দফায় দফায় শ্রমিক বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ Logo জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে পেয়ারা ও মাল্টা গাছ কেটে দিল Logo বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর

রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান উদ্দিনের (৩৫) মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান। সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান উদ্দিনের মৃত্যুর বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সিলেটের ঘটনাটি এখন তদন্তে রয়েছে।

সেখানে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা মিডিয়ায় প্রচার হয়েছে। আমরাও দেখেছি। কোতোয়ালি থানাধীন কাস্টঘর এলাকা থেকে রায়হানকে ধরে আনা হয়েছিল।

হঠাৎ করে সকাল ৬টার দিকে অসুস্থ বোধ করলে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’ তিনি বলেন, ‘তার ময়নাতদন্ত হচ্ছে কিংবা হবে- সেই অনুযায়ী এবং তার স্ত্রী যে মামলা করেছেন সবগুলো আমলে নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হবে।

তদন্ত অনুযায়ী অবশ্যই দায়ীদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। এ বিষয়ে পিবিআইকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পিবিআই যাতে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করতে পারে।’

মঙ্গলবার ঢাকার নবাবগঞ্জ থানা হাজতের টয়লেট থেকে হত্যা মামলার আসামি মো. মামুন হোসেনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আসামি বাথরুমে গিয়ে নিজের লুঙ্গি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এটা ভালো করে তদন্তের মাধ্যমে আমরা দেখব। হাজতখানার ভেতরে সে কীভাবে মারা গেল সেটা দেখার বিষয়।

দেখার বিষয় কেন সে আত্মহত্যা করল, তাকে কেউ প্ররোচিত করেছে কিনা! সবগুলোই আমরা দেখব।

৩৫ বছর বয়স্ক এক মহিলার লাশ পাওয়া গেছে, যিনি আত্মহত্যা করেছেন, এরমধ্যে পারিবারিক গন্ধও পাওয়া যাচ্ছে। কাজেই আমরা কিছু বলার আগে তদন্তটা শেষ হোক তারপর সব কিছু জানানো হবে।’

আইন সংশোধন করে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হয়েছে। কিন্তু মামলার তদন্ত, চার্জশিট দিতে বিলম্বের কারণে বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা হয়- এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আপনারা বলছিলেন ধর্ষণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।

আমরা কয়েকটি ঘটনাও দেখেছি। কয়েকটি দুর্ঘটনা এমনভাবে ঘটেছে যে এটা সবার চোখে পড়েছে। সেজন্যই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হয়েছে।

বিচারের ব্যবস্থাটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নয়। বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। বিচার সুষ্ঠু হওয়ার জন্য যেটা প্রয়োজন সঠিক তদন্ত, সেটা আমাদের। আমাদের যেটা করার আমরা করছি।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশ তদন্তের পর আমরা নানাভাবে এগুলো দেখি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যদি আমরা মনে করি সঠিকভাবে তদন্ত করার জন্য পিবিআইকে দেয়া উচিত, আমরা সেই কাজটিও করছি।

মোট কথা তদন্ত যতখানি নিরপেক্ষভাবে করা যায়, সেই কাজটিই আমরা করছি, সেই কাজটিই আমরা করব।

তাড়াতাড়ি বিচার হওয়ার বিষয়টি আমাদের হাতে নয়। আদালত সেই সিদ্ধান্ত নেবে। তারাও আপনাদের জানিয়েছেন, এই সমস্ত ক্ষেত্রে তারা বিচারের ব্যবস্থা তাড়াতাড়ি করবেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এসিড নিক্ষেপ একটা রেগুলার প্র্যাকটিসের মতো হয়ে গিয়েছিল। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করলাম। একটি দুটি রায়ও যখন ঘোষিত হল, সেই জায়গাটিতে কিন্তু কমে গেছে।

আমরা সেটাই মনে করি সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান মৃত্যুদণ্ড হোক এবং এটা কমে যাক। এই নির্যাতন থেকে নারীরা যাতে মুক্ত হয় সেজন্য এ ব্যবস্থাটা করা হয়েছে।’

ট্যাগস

ধামইরহাটে ৫৫ তম জাতীয় সমবায় দিবস পালিত

রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:৩১:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২০

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান উদ্দিনের (৩৫) মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান। সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান উদ্দিনের মৃত্যুর বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সিলেটের ঘটনাটি এখন তদন্তে রয়েছে।

সেখানে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা মিডিয়ায় প্রচার হয়েছে। আমরাও দেখেছি। কোতোয়ালি থানাধীন কাস্টঘর এলাকা থেকে রায়হানকে ধরে আনা হয়েছিল।

হঠাৎ করে সকাল ৬টার দিকে অসুস্থ বোধ করলে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’ তিনি বলেন, ‘তার ময়নাতদন্ত হচ্ছে কিংবা হবে- সেই অনুযায়ী এবং তার স্ত্রী যে মামলা করেছেন সবগুলো আমলে নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হবে।

তদন্ত অনুযায়ী অবশ্যই দায়ীদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। এ বিষয়ে পিবিআইকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পিবিআই যাতে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করতে পারে।’

মঙ্গলবার ঢাকার নবাবগঞ্জ থানা হাজতের টয়লেট থেকে হত্যা মামলার আসামি মো. মামুন হোসেনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আসামি বাথরুমে গিয়ে নিজের লুঙ্গি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এটা ভালো করে তদন্তের মাধ্যমে আমরা দেখব। হাজতখানার ভেতরে সে কীভাবে মারা গেল সেটা দেখার বিষয়।

দেখার বিষয় কেন সে আত্মহত্যা করল, তাকে কেউ প্ররোচিত করেছে কিনা! সবগুলোই আমরা দেখব।

৩৫ বছর বয়স্ক এক মহিলার লাশ পাওয়া গেছে, যিনি আত্মহত্যা করেছেন, এরমধ্যে পারিবারিক গন্ধও পাওয়া যাচ্ছে। কাজেই আমরা কিছু বলার আগে তদন্তটা শেষ হোক তারপর সব কিছু জানানো হবে।’

আইন সংশোধন করে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হয়েছে। কিন্তু মামলার তদন্ত, চার্জশিট দিতে বিলম্বের কারণে বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা হয়- এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আপনারা বলছিলেন ধর্ষণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।

আমরা কয়েকটি ঘটনাও দেখেছি। কয়েকটি দুর্ঘটনা এমনভাবে ঘটেছে যে এটা সবার চোখে পড়েছে। সেজন্যই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হয়েছে।

বিচারের ব্যবস্থাটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নয়। বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। বিচার সুষ্ঠু হওয়ার জন্য যেটা প্রয়োজন সঠিক তদন্ত, সেটা আমাদের। আমাদের যেটা করার আমরা করছি।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশ তদন্তের পর আমরা নানাভাবে এগুলো দেখি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যদি আমরা মনে করি সঠিকভাবে তদন্ত করার জন্য পিবিআইকে দেয়া উচিত, আমরা সেই কাজটিও করছি।

মোট কথা তদন্ত যতখানি নিরপেক্ষভাবে করা যায়, সেই কাজটিই আমরা করছি, সেই কাজটিই আমরা করব।

তাড়াতাড়ি বিচার হওয়ার বিষয়টি আমাদের হাতে নয়। আদালত সেই সিদ্ধান্ত নেবে। তারাও আপনাদের জানিয়েছেন, এই সমস্ত ক্ষেত্রে তারা বিচারের ব্যবস্থা তাড়াতাড়ি করবেন।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এসিড নিক্ষেপ একটা রেগুলার প্র্যাকটিসের মতো হয়ে গিয়েছিল। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করলাম। একটি দুটি রায়ও যখন ঘোষিত হল, সেই জায়গাটিতে কিন্তু কমে গেছে।

আমরা সেটাই মনে করি সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান মৃত্যুদণ্ড হোক এবং এটা কমে যাক। এই নির্যাতন থেকে নারীরা যাতে মুক্ত হয় সেজন্য এ ব্যবস্থাটা করা হয়েছে।’