ঢাকা ০৬:২০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ :
Logo নওগাঁর আত্রাইয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা ভাঙচুর হত্যা চেষ্টার অভিযোগ   Logo হবিগঞ্জে ছাত্রদল সভাপতিসহ ১’শ জনকে আসামি করে মামলা, ১৪৪ ধারা প্রত্যাহার Logo চুয়েটে পুকুরে গোসল করতে নেমে শিক্ষার্থীর মৃত্যু Logo দুবাই পাঠানোর নামে জাল ভিসা দিয়ে নওগাঁয় ১৮ লাখ টাকা আত্মসাৎ Logo রাষ্ট্রপতি হওয়ার খবর গুজব, বললেন মির্জা ফখরুল Logo নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবের নেতৃত্বে আবু বকর-বেলাল Logo নওগাঁয় মাদকের টাকা না পেয়ে  পিতাকে খুন করলো ছেলে Logo নওগাঁয় সপ্তম শ্রেনীর ছাত্রীকে অপহরণ ৩ সপ্তাহে হয়নি উদ্ধার Logo নওগাঁয় আদালতের নির্দেশে কবর ১০ মাস পর শিশুর লাশ উত্তোলন Logo নওগাঁয় ক্লাসরুমের ছাদ ধসে ৭ শিক্ষার্থী আহত

ফোন পেলেই করোনা রোগী নিতে ছুটছে অ্যাম্বুলেন্স

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট শহরতলীর টুকেরবাজার এলাকা থেকে এক করোনা আক্রান্ত রোগীকে শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে (সদর হাসপাতাল) নিতে হবে। এজন্য প্রয়োজন অ্যাম্বুলেন্সের।

এক চিকিৎসক অ্যাম্বুলেন্স সহযোগিতা চেয়ে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেন মুহাম্মদ দিলওয়ার হোসাইনের নাম্বারে। মুহূর্তেই অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে দিলেন তিনি। সেই অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়ি থেকে ওই রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে ফের বাড়িতে পৌঁছেও দেওয়া হলো।

শুধু তাই নয়; গত ৫ মে উদ্বোধনের পর থেকেই প্রতিদিনই সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ফোন আর এসএমএস আসছে হটলাইন নাম্বারে। ফোন বা এসএমএস পেয়েই স্বেচ্ছাসেবকরা করোনা আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা এই অ্যাম্বুলেন্স সেবা পাওয়া যাবে। এজন্য খোলা রয়েছে তিনটি হটলাইন নাম্বারও।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে দেশে সাধারণ ছুটিতে সড়কে হাতেগোনা যানবাহন চলছে। তবে এসব যানবাহনে সঙ্গত কারণেই করোনা উপসর্গযুক্ত কোনো রোগী পরিবহন করা হচ্ছে না।

এদকে করোনায় আক্রান্ত রোগীর জন্যও নেই পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা। যে কারণে হাসপাতালে যেতে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। এ অবস্থায় অসুস্থদের হাসপাতালে পৌঁছে দিতে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন সিলেটের এই আবাসন ব্যবসায়ী।

ফ্রি অ‌্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালুর মূল উদ্যোক্তা মুহাম্মদ দিলওয়ার হোসাইন বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত রোগীদের পাশাপাশি করোনা উপসর্গযুক্ত রোগী হাসপাতালে নিতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। এজন্য সামাজিক দায়বোধ থেকেই বিনামূল্যে এ অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর উদ্যোগ নিই।

উদ্যোগটি বাস্তবায়নে কাজ করছেন আটজন স্বেচ্ছাসেবী। যারা ঝুঁকি জেনেও স্বেচ্ছায় রোগী পরিবহনে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘‘অ্যাম্বুলেন্সের চালকসহ স্বেচ্ছাসেবীদের পিপিইসহ (পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপম্যান্ট) সবধরনের নিরাপত্তা সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। প্রতিবার রোগী পরিবহনের পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিধি অনুসারে অ্যাম্বুলেন্স জীবাণুমুক্ত করা হয়।

‘উদ্বোধনের দিন থেকেই প্রতিদিনই হটলাইন নাম্বারে কল আসছে। কল পাওয়ার সাথে সাথেই রোগী পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স ছুটে যাচ্ছে গন্তব্যে। এখন পর্যন্ত সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলার পাশাপাশি হবিগঞ্জ এবং মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকেও রোগী পরিবহন করা হয়েছে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা এই অ্যাম্বুলেন্স সেবা পাওয়া যাবে। হটলাইন নম্বরগুলো হলো- ০১৭২৮-৭৮০২২২, ০১৭১৬-২০১৩০৭ ও ০১৭৭০-১৩০২৩৩। এই নাম্বারে যোগাযোগ করে যে কেউ বিনামূল্যে এ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নিতে পারবেন।”

স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, ঝুঁকি জেনেও তারা করোনা আক্রান্তেদের হাসপাতালে পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছেন। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা তারা ফোন কলের অপেক্ষায় থাকেন। যে কোনো স্থান থেকেই কল আসুক তারা দ্রুত সেখানে পৌঁছে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা উপসর্গযুক্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে পৌঁছানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

মুহাম্মদ দিলওয়ার আবাসন প্রতিষ্ঠান হলি আরবান প্রপার্টিজ লিমিটেড-এর এমডি ও আর্ক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেড-এর প্রকল্প পরিচালক।

তিনি সিলেট এপার্টমেন্ট অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট গ্রুপ (সারেগ) এবং সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সদস্যও। করোনাকালে তার এই উদ্যোগের প্রশংসা করছেন সচেতন মহল।

ট্যাগস

নওগাঁর আত্রাইয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বসতবাড়িতে হামলা ভাঙচুর হত্যা চেষ্টার অভিযোগ  

ফোন পেলেই করোনা রোগী নিতে ছুটছে অ্যাম্বুলেন্স

আপডেট সময় ১২:০৭:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ মে ২০২০

সিলেট প্রতিনিধি: সিলেট শহরতলীর টুকেরবাজার এলাকা থেকে এক করোনা আক্রান্ত রোগীকে শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে (সদর হাসপাতাল) নিতে হবে। এজন্য প্রয়োজন অ্যাম্বুলেন্সের।

এক চিকিৎসক অ্যাম্বুলেন্স সহযোগিতা চেয়ে ক্ষুদে বার্তা পাঠালেন মুহাম্মদ দিলওয়ার হোসাইনের নাম্বারে। মুহূর্তেই অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করে দিলেন তিনি। সেই অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়ি থেকে ওই রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে ফের বাড়িতে পৌঁছেও দেওয়া হলো।

শুধু তাই নয়; গত ৫ মে উদ্বোধনের পর থেকেই প্রতিদিনই সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে ফোন আর এসএমএস আসছে হটলাইন নাম্বারে। ফোন বা এসএমএস পেয়েই স্বেচ্ছাসেবকরা করোনা আক্রান্ত রোগীকে হাসপাতালে পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ছুটে যাচ্ছেন। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা এই অ্যাম্বুলেন্স সেবা পাওয়া যাবে। এজন্য খোলা রয়েছে তিনটি হটলাইন নাম্বারও।

করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে দেশে সাধারণ ছুটিতে সড়কে হাতেগোনা যানবাহন চলছে। তবে এসব যানবাহনে সঙ্গত কারণেই করোনা উপসর্গযুক্ত কোনো রোগী পরিবহন করা হচ্ছে না।

এদকে করোনায় আক্রান্ত রোগীর জন্যও নেই পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা। যে কারণে হাসপাতালে যেতে বেশ ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তাদের। এ অবস্থায় অসুস্থদের হাসপাতালে পৌঁছে দিতে ফ্রি অ্যাম্বুলেন্স সেবা নিয়ে এগিয়ে এসেছেন সিলেটের এই আবাসন ব্যবসায়ী।

ফ্রি অ‌্যাম্বুলেন্স সার্ভিস চালুর মূল উদ্যোক্তা মুহাম্মদ দিলওয়ার হোসাইন বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত রোগীদের পাশাপাশি করোনা উপসর্গযুক্ত রোগী হাসপাতালে নিতে বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। এজন্য সামাজিক দায়বোধ থেকেই বিনামূল্যে এ অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালুর উদ্যোগ নিই।

উদ্যোগটি বাস্তবায়নে কাজ করছেন আটজন স্বেচ্ছাসেবী। যারা ঝুঁকি জেনেও স্বেচ্ছায় রোগী পরিবহনে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘‘অ্যাম্বুলেন্সের চালকসহ স্বেচ্ছাসেবীদের পিপিইসহ (পার্সোনাল প্রটেকটিভ ইকুইপম্যান্ট) সবধরনের নিরাপত্তা সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। প্রতিবার রোগী পরিবহনের পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিধি অনুসারে অ্যাম্বুলেন্স জীবাণুমুক্ত করা হয়।

‘উদ্বোধনের দিন থেকেই প্রতিদিনই হটলাইন নাম্বারে কল আসছে। কল পাওয়ার সাথে সাথেই রোগী পরিবহনের জন্য অ্যাম্বুলেন্স ছুটে যাচ্ছে গন্তব্যে। এখন পর্যন্ত সিলেট জেলার বিভিন্ন উপজেলার পাশাপাশি হবিগঞ্জ এবং মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকেও রোগী পরিবহন করা হয়েছে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা এই অ্যাম্বুলেন্স সেবা পাওয়া যাবে। হটলাইন নম্বরগুলো হলো- ০১৭২৮-৭৮০২২২, ০১৭১৬-২০১৩০৭ ও ০১৭৭০-১৩০২৩৩। এই নাম্বারে যোগাযোগ করে যে কেউ বিনামূল্যে এ অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নিতে পারবেন।”

স্বেচ্ছাসেবকরা জানান, ঝুঁকি জেনেও তারা করোনা আক্রান্তেদের হাসপাতালে পৌঁছে দিতে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছেন। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা তারা ফোন কলের অপেক্ষায় থাকেন। যে কোনো স্থান থেকেই কল আসুক তারা দ্রুত সেখানে পৌঁছে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা উপসর্গযুক্ত ব্যক্তিকে হাসপাতালে পৌঁছানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

মুহাম্মদ দিলওয়ার আবাসন প্রতিষ্ঠান হলি আরবান প্রপার্টিজ লিমিটেড-এর এমডি ও আর্ক রিয়েল এস্টেট প্রাইভেট লিমিটেড-এর প্রকল্প পরিচালক।

তিনি সিলেট এপার্টমেন্ট অ্যান্ড রিয়েল এস্টেট গ্রুপ (সারেগ) এবং সিলেট মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সদস্যও। করোনাকালে তার এই উদ্যোগের প্রশংসা করছেন সচেতন মহল।