ঢাকা ০১:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬, ৪ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সর্বশেষ :
Logo এবার ইরানে ইসরাইল হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে নেই, ট্রাম্প Logo নওগাঁর পত্নীতলায় গৃহবধূর ওপর সন্ত্রাসী হামলা, গুরুতর জখম Logo ইসরাইল ও ইরান কে থামতে বললেন ট্রাম্প Logo নওগাঁয় পূবালী ব্যাংক পিএলসি’র ডিজিটাল ব্যাংকিং ও ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন শুরু Logo নওগাঁয় কৃষকের ধান কেটে দিলেন এমপি ফজলে হুদা বাবুল Logo কুমিল্লায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ Logo ৫ লাখ টাকার চুক্তিতে ‘তথ্য সন্ত্রাস’: আত্রাইয়ে দুই ‘ফেসবুকারের তান্ডব Logo রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি গ্রেফতার Logo নওগাঁয় পুলিশের চিরুনি অভিযান: অনলাইন জুয়া সেন্টারের সন্ধান, মূলহোতাসহ গ্রেফতার ১৫ Logo গাজীপুরে ৫খুন: অভিযুক্ত ফোরকানের মরদেহ নদী থেকে উদ্ধার

নওগাঁয় স্ত্রীর মৃত্যুর পর স্বামীরও মৃত্যু,ভালোবাসার গল্পের করুণ পরিসমাপ্তি

ভালোবাসার গল্প কখনো শেষ হয় না — মৃত্যুতেও নয়। এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কাদিবাড়ী গ্রামে। স্ত্রীর মৃত্যুর মাত্র ১১ ঘণ্টার ব্যবধানে মৃত্যুবরণ করেছেন স্বামীও। যেন একে অপরকে ছেড়ে বাঁচতে না পারার চিরন্তন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তারা।

ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) উপজেলার কাদিবাড়ী গ্রামে। শনিবার (২৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে জানাজা শেষে দম্পতিকে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়। একই পরিবারের দুইজনের মৃত্যুতে পুরো গ্রামে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। স্তব্ধ হয়ে পড়ে এলাকার মানুষ।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাদিবাড়ী গ্রামের প্রয়াত মো. জলিলুর রহমান জলিল মাস্টার (৭৫) ও তার স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগম (৬৫) ছিলেন ৪৫ বছরের সুখী দাম্পত্য জীবনের প্রতিচ্ছবি। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে ছিলেন পরস্পরের ছায়া, পরস্পরের ভরসা।
কিন্তু সেই ছায়া সরে যায় হঠাৎই, শুক্রবার দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আঞ্জুয়ারা বেগম। স্ত্রীর মৃত্যুর খবর শুনে শোকে ভেঙে পড়েন স্বামী জলিল মাস্টার। বিকেল থেকেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাতে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টা ২৫ মিনিটে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনিও।

তাদের সংসারে রয়েছে দুই ছেলে ও এক মেয়ে।
ছোট ছেলে মো. রাকিবুল হাসান রকি বলেন,

“মা-বাবাকে একসঙ্গে হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। মা হঠাৎই চলে গেলেন। বাবা হালকা অসুস্থ ছিলেন, কিন্তু মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই তিনি ভীষণ ভেঙে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পর আর ফেরেননি…”

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, জলিল মাস্টার ও আঞ্জুয়ারা বেগম ছিলেন একে অপরের প্রাণসঙ্গী। তাদের ভালোবাসা ছিল নিখাঁদ, আন্তরিক।

“তারা একে অপরকে ছাড়া কখনো বাঁচতে পারতেন না। হয়তো সেই কারণেই একজন চলে যাওয়ার পর আরেকজনও থাকতে পারেননি,”
বললেন এক প্রতিবেশী আবেগভরে।

ভালোবাসা ও মৃত্যুর এই যুগল কাহিনি এখন কাদিবাড়ী গ্রামের মানুষের মুখে মুখে। কেউ বলছেন, “মৃত্যুতেও যে ভালোবাসার বন্ধন অটুট থাকে, জলিল মাস্টার দম্পতি তারই উদাহরণ।”

ট্যাগস

এবার ইরানে ইসরাইল হামলা চালালে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে নেই, ট্রাম্প

নওগাঁয় স্ত্রীর মৃত্যুর পর স্বামীরও মৃত্যু,ভালোবাসার গল্পের করুণ পরিসমাপ্তি

আপডেট সময় ১০:৪৮:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৫

ভালোবাসার গল্প কখনো শেষ হয় না — মৃত্যুতেও নয়। এমনই এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার কাদিবাড়ী গ্রামে। স্ত্রীর মৃত্যুর মাত্র ১১ ঘণ্টার ব্যবধানে মৃত্যুবরণ করেছেন স্বামীও। যেন একে অপরকে ছেড়ে বাঁচতে না পারার চিরন্তন দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তারা।

ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) উপজেলার কাদিবাড়ী গ্রামে। শনিবার (২৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে জানাজা শেষে দম্পতিকে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি দাফন করা হয়। একই পরিবারের দুইজনের মৃত্যুতে পুরো গ্রামে নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া। স্তব্ধ হয়ে পড়ে এলাকার মানুষ।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কাদিবাড়ী গ্রামের প্রয়াত মো. জলিলুর রহমান জলিল মাস্টার (৭৫) ও তার স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগম (৬৫) ছিলেন ৪৫ বছরের সুখী দাম্পত্য জীবনের প্রতিচ্ছবি। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে ছিলেন পরস্পরের ছায়া, পরস্পরের ভরসা।
কিন্তু সেই ছায়া সরে যায় হঠাৎই, শুক্রবার দুপুর ১টা ২৫ মিনিটে। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আঞ্জুয়ারা বেগম। স্ত্রীর মৃত্যুর খবর শুনে শোকে ভেঙে পড়েন স্বামী জলিল মাস্টার। বিকেল থেকেই তার শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। পরে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাতে নওগাঁ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ১২টা ২৫ মিনিটে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনিও।

তাদের সংসারে রয়েছে দুই ছেলে ও এক মেয়ে।
ছোট ছেলে মো. রাকিবুল হাসান রকি বলেন,

“মা-বাবাকে একসঙ্গে হারিয়ে আমরা নিঃস্ব হয়ে গেছি। মা হঠাৎই চলে গেলেন। বাবা হালকা অসুস্থ ছিলেন, কিন্তু মায়ের মৃত্যুর পর থেকেই তিনি ভীষণ ভেঙে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পর আর ফেরেননি…”

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, জলিল মাস্টার ও আঞ্জুয়ারা বেগম ছিলেন একে অপরের প্রাণসঙ্গী। তাদের ভালোবাসা ছিল নিখাঁদ, আন্তরিক।

“তারা একে অপরকে ছাড়া কখনো বাঁচতে পারতেন না। হয়তো সেই কারণেই একজন চলে যাওয়ার পর আরেকজনও থাকতে পারেননি,”
বললেন এক প্রতিবেশী আবেগভরে।

ভালোবাসা ও মৃত্যুর এই যুগল কাহিনি এখন কাদিবাড়ী গ্রামের মানুষের মুখে মুখে। কেউ বলছেন, “মৃত্যুতেও যে ভালোবাসার বন্ধন অটুট থাকে, জলিল মাস্টার দম্পতি তারই উদাহরণ।”