ঢাকা ১২:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন তৈরি হচ্ছে সংসদ ভবন এলাকায়

জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে তৈরি হচ্ছে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর নতুন সরকারি বাসভবন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের জন্য নির্মিত পাশাপাশি দুটি ভবন একীভূত করে এই বাসভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ভবন দুটির মধ্যে যাতায়াতের সুবিধার্থে নির্মাণ করা হবে দুই স্তরবিশিষ্ট একটি করিডর।

গণভবন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হলেও, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সেখানে বিক্ষোভকারীদের হামলার পর সেটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অংশ হিসেবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কমিটি নতুন বাসভবনের জন্য সংসদ এলাকার দুই ভবনকে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

গত রবিবার গৃহায়ণ ও গণপূর্তসচিব নজরুল ইসলাম, সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা, প্রধান উপদেষ্টার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল ফেরদৌস হাসান এবং এসএসএফ প্রধানসহ একটি প্রতিনিধি দল ভবন দুটি পরিদর্শন করেন। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সদস্যরাও একাধিকবার এলাকা ঘুরে দেখেছেন।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালে নির্মিত ভবন দুটি লাল ইটের দোতলা এবং একে অপরের পাশে অবস্থিত। এর নকশা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্ট ভবনগুলোর বৈধতা নিশ্চিত করে। ভবন দুটি সংসদ ভবনের পশ্চিম পাশে, আসাদ গেটের দিকের অংশে অবস্থিত এবং সর্বশেষ স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার এখানে বসবাস করেছেন।

আধুনিক স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে পরিচিত জাতীয় সংসদ ভবনের মূল নকশায় যাতে ব্যত্যয় না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সভাপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ। তিনি এই ভবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন তৈরিতে বড় ধরনের সংস্কার খরচ হবে না। ভবন সংযোগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করলেই এটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে। প্রয়োজনে এটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন হিসেবেও ব্যবহারযোগ্য থাকবে।

ট্যাগস

নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন তৈরি হচ্ছে সংসদ ভবন এলাকায়

আপডেট সময় ০১:২৭:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জাতীয় সংসদ ভবন চত্বরে তৈরি হচ্ছে দেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রীর নতুন সরকারি বাসভবন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের জন্য নির্মিত পাশাপাশি দুটি ভবন একীভূত করে এই বাসভবন নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ভবন দুটির মধ্যে যাতায়াতের সুবিধার্থে নির্মাণ করা হবে দুই স্তরবিশিষ্ট একটি করিডর।

গণভবন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হলেও, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সেখানে বিক্ষোভকারীদের হামলার পর সেটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এ রূপান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের অংশ হিসেবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের কমিটি নতুন বাসভবনের জন্য সংসদ এলাকার দুই ভবনকে একীভূত করার সিদ্ধান্ত নেয়।

গত রবিবার গৃহায়ণ ও গণপূর্তসচিব নজরুল ইসলাম, সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা, প্রধান উপদেষ্টার সামরিক সচিব মেজর জেনারেল ফেরদৌস হাসান এবং এসএসএফ প্রধানসহ একটি প্রতিনিধি দল ভবন দুটি পরিদর্শন করেন। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সদস্যরাও একাধিকবার এলাকা ঘুরে দেখেছেন।

উল্লেখ্য, ২০০২ সালে নির্মিত ভবন দুটি লাল ইটের দোতলা এবং একে অপরের পাশে অবস্থিত। এর নকশা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও ২০২২ সালে সুপ্রিম কোর্ট ভবনগুলোর বৈধতা নিশ্চিত করে। ভবন দুটি সংসদ ভবনের পশ্চিম পাশে, আসাদ গেটের দিকের অংশে অবস্থিত এবং সর্বশেষ স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার এখানে বসবাস করেছেন।

আধুনিক স্থাপত্যের অন্যতম নিদর্শন হিসেবে পরিচিত জাতীয় সংসদ ভবনের মূল নকশায় যাতে ব্যত্যয় না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বাংলাদেশ স্থপতি ইনস্টিটিউটের সভাপতি আবু সাঈদ এম আহমেদ। তিনি এই ভবনকে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

সরকারি সূত্রে জানা গেছে, নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন তৈরিতে বড় ধরনের সংস্কার খরচ হবে না। ভবন সংযোগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করলেই এটি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা যাবে। প্রয়োজনে এটি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন হিসেবেও ব্যবহারযোগ্য থাকবে।


Notice: ob_end_flush(): Failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home2/visionnewstoday/public_html/wp-includes/functions.php on line 5481